ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মাধবপুর গ্রামে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন। কারণ শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে জামায়াতের মহিলা শাখার একটি ইফতার মাহফিলের আয়োজনকে কেন্দ্র করে এই ঝামেলার সূত্রপাত হয়। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলাকালে বিএনপি কর্মীদের সঙ্গে নারী কর্মীদের কথা কাটাকাটি হয়। তাই সামান্য বাকবিতণ্ডা একপর্যায়ে উভয় পক্ষের পুরুষ সদস্যদের মধ্যে বড় ধরনের সংঘর্ষে রূপ নেয়। এই ঘটনার পর পুরো এলাকায় এখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
![]() |
| সংঘর্ষে আহত লোকজন |
ইফতারের আয়োজন নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত
মাধবপুর গ্রামে জামায়াতের নারী কর্মীদের ইফতার মাহফিলের প্রস্তুতি ঘিরেই মূলত উত্তেজনার শুরু হয়েছিল। কারণ দুপুরের দিকে ওই আয়োজনের স্থান বা প্রক্রিয়া নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে তর্কের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে নারী কর্মীদের পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে এলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তাই শান্তিপূর্ণ ধর্মীয় অনুষ্ঠানের বদলে গ্রামটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। যেহেতু রমজান মাস চলমান, তাই এই ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা স্থানীয় সাধারণ মানুষের মনে ভীতির সঞ্চার করেছে।
হতাহত ও হাসপাতালে ভর্তির খবর
সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ৮ জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। কারণ লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে আহতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা কিছুটা আশঙ্কাজনক। তাই হাসপাতালে এখন আহতদের স্বজন ও রাজনৈতিক কর্মীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
পুলিশ মোতায়েন ও বর্তমান পরিস্থিতি
গ্রামের পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে এবং নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কারণ উভয় দলই এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় পুনরায় হামলার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ঝিনাইদহ সদর থানা পুলিশ জানিয়েছে, তারা ঘটনার তদন্ত করছে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনতে কাজ শুরু করেছে। তাই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করলেও বর্তমানে পুলিশি টহল জোরদার রয়েছে। রাজনৈতিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে স্থানীয় মুরব্বিদের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সাধারণ গ্রামবাসী।
